মাংস খাওয়া কমিয়ে শাকসবজি ও ফলমূল বেশি পরিমাণে খেলে ২০৫০ সালের মধ্যে লাখো মানুষের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। এতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ল...
মাংস খাওয়া কমিয়ে শাকসবজি ও ফলমূল বেশি পরিমাণে খেলে ২০৫০ সালের মধ্যে লাখো মানুষের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। এতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির লাগামও টেনে ধরা যাবে। সেই সঙ্গে সাশ্রয় হবে স্বাস্থ্যসেবা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ খাতের শত শত কোটি মার্কিন ডলার। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক তাঁদের গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছেন।
প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস সাময়িকীতে ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববাসীর খাদ্যাভ্যাসে উদ্ভিদনির্ভরতা বাড়ালে স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন ঘটতে পারে—তা নিয়ে এটিই প্রথম সমন্বিত গবেষণা। এতে নেতৃত্ব দেন ‘ফিউচার অব ফুড’ শীর্ষক অক্সফোর্ড মার্টিন প্রোগ্রামের বিজ্ঞানী মার্কো স্প্রিংম্যান। তিনি বলেন, মানুষ যে খাবার বেশি পরিমাণে খায়, সেটা তাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে প্রভাবিত করে। ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। আর বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী যে গ্রিনহাউস গ্যাস, তার এক-চতুর্থাংশের বেশি উৎপন্ন হয় মানুষের খাদ্যব্যবস্থা থেকে।
স্প্রিংম্যান আরও বলেন, ‘সবাই নিরামিষভোজী হয়ে যাবে—এমন আশা আমরা করি না। তবে খাদ্যব্যবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সে জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিবর্তনের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়ার প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে অধিকতর স্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই খাদ্যাভ্যাস চালু করাটা সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।’
অক্সফোর্ডের ওই গবেষকেরা বলছেন, খাদ্যতালিকায় লাল মাংস, শর্করা বা চিনি এবং সামগ্রিক ক্যালরির পরিমাণ সীমিত রেখে শাকসবজি ও ফলমূলের মতো উদ্ভিদনির্ভর খাবারের পরিমাণ বাড়ালে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৫১ লাখ মানুষের মৃত্যু রোধ করা যেতে পারে। আর মানুষ যদি ডিম ও দুধসহ প্রাণী থেকে পাওয়া সব রকমের খাবার বর্জন করে, বিশ্বে প্রতিবছর মৃত্যুসংখ্যা কমবে ৮১ লাখ। খাদ্যাভ্যাস এ রকম বদলে দিতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। যেমন: পরিমিত খাদ্যাভ্যাস চালু করলে খাদ্য-সংক্রান্ত কার্বন নির্গমন ২৯ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। খাদ্যতালিকায় উদ্ভিদনির্ভর উপাদানের পরিমাণ বাড়ালে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ৬৩ শতাংশ কমবে। আর প্রাণী থেকে পাওয়া সব রকমের খাবার বর্জন করলে ওই নির্গমন ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খাদ্যাভ্যাস বদলাতে পারলে প্রতিবছর স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৭০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় করা যেতে পারে। আর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের অর্থনৈতিক সুবিধার পরিমাণ হবে ৫৭ হাজার কোটি ডলার।

COMMENTS