আমাদের সাধারণ জ্ঞানে এবং বিশ্বাসে আমরা মনে করি পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যা মানুষের বসবাসযোগ্য। শত বছর ধরে মানব জাতি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে অনে...
বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন পানি। আর গোল্ডিলক গ্রহগুলোতে পানি পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনাই জীবের অস্তিত্ব পাওয়ার বা মানুষের বসবাস যোগ্যতার সম্ভাবনাকে প্রবল করে। এমন ৩টি গ্রহ সম্পর্কে জানব আজ।
Kepler-438 b: লায়রা নক্ষত্রমণ্ডলীর একটি গ্রহ এটি। পৃথিবী থেকে এর অবস্থান ৪৭০ আলোকবর্ষ দূরে। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১.২ গুণ বড়। একটি কমলা বামন তারাকে প্রদক্ষিণ করে এটি। আমাদের পৃথিবীর তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি তাপ গ্রহণ করে গ্রহটি এবং ৭০ শতাংশ বেশি পাথুরে। আপনি হয়তো ভাবছেন, বেশি তাপ এবং পাথুরে এলাকা নিয়ে কি করে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত হতে পারে গ্রহটি! আর্কিবোতে অবস্থিত পোরতো রিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এটা পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ, এর আকৃতি, তারা থেকে দূরত্ব, শক্তি গ্রহণের মাত্রা, ইত্যাদির কারণে। পৃথিবীর সঙ্গে এর ৮৩ শতাংশ মিল রয়েছে।
Kepler-296: এটিও নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর কাছাকাছি আকৃতির একটি গ্রহ। এর ব্যাস ১.৭৫ গুণ বড় পৃথিবীর তুলনায়। এটি পৃথিবীর ২য় ঘনিষ্ঠ গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত। প্রতি ৩৪.১ দিনে একবার কক্ষপথে ঘুরে আসে। আকৃতি, তাপমাত্রা, আবহাওয়া সব মিলিয়ে এটি গোল্ডিলক্স জোনের আওতায় পড়ে।
Gliese 667C c: এটি পৃথিবী থেকে ২৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ২০১১ সালে আমেরিকান এবং ইউরোপিয়ান মহাকাশচারীরা এটি আবিষ্কার করেন। এটি পৃথিবী থেকে ৪ গুণ বড়। প্রতি ২৩ দিন ১৪ ঘণ্টায় একবার তার কক্ষপথে ঘুরে আসে। এর সূর্য থেকে এটি বেশ কাছে । অনেক বেশি পাথুরেও গ্রহটি। এর পরও এটি মানুষের বসবাসযোগ্য হতে পারে। কিভাবে? মজার ব্যাপার হলো, এই গ্রহ একটি লাল বামন তারাকে ঘিরে ঘুরছে যা সূর্য থেকেও ছোট আকৃতির বলে ধারণা করা হয়। এর কারণে সৌরজগতে পৃথিবীর অবস্থান আর গ্লিয়েস ৬৬৭সিসি-এর তার তারা থেকে দূরত্ব আসলে সমান। কিন্তু সমস্যা হলো গ্রহটি টাইডালি লকড, যার কারণে এর এক অংশ সারা বছরই সূর্যের দিকে থাকে আর অন্য অংশটি থাকে বিপরীত দিকে। তারার দিকে মুখ করে থাকা অংশটি এতই উত্তপ্ত থাকে যে প্রাণীর বেঁচে থাকা অসম্ভব। আর অপর অংশ সমানতালে ভীষণ মাত্রায় শীতল। তবুও এই দুই বৈপরীত্যের মাঝামাঝি এলাকায় জীবের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ আছে বলে ধারণা করা হয়। কারণ সেখানে তাপমাত্রা একেবারে নাতিশীতোষ্ণ যা প্রাণের টিকে থাকার সহায়ক।
COMMENTS