বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি করে নেওয়ার ঘটনাটি সারা বিশ্বে শোরগোল তুলেছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ইউ...
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি করে নেওয়ার ঘটনাটি সারা বিশ্বে শোরগোল তুলেছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ইউজিন ক্যাসপারস্কি বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হ্যাকাররা বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরি ও রাশিয়ায় কারসাজি করে রুবল বিনিময় হার বাড়িয়ে সফল হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার দুর্বৃত্তদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এখন আরও বেশি হামলা চালাতে পারে হ্যাকাররা।
ক্যাসপারস্কি বলেন, ‘বিশ্বের কিছু অংশে সাইবার দুর্বৃত্তদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিশাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, তারা পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে এবং বিশ্বজুড়ে সেই পদ্ধতি ছড়িয়ে দিচ্ছে। চরম পেশাদার সাইবার দুর্বৃত্তরা নতুন ধরনের লক্ষ্যবস্তু খুঁজছে। উদাহরণ হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জের কথা বলা যায়।’
ক্যাসপারস্কি বলেন, এ ধরনের আক্রমণকে সাইবার সন্ত্রাস বলা যেতে পারে। ব্যাংকের নিরাপত্তা সিস্টেমকে ভাঙতে পারে, এমন প্রযুক্তি কিনতে পাওয়া যায়। হ্যাকিং থেকে মুনাফা করা ছাড়াও পেশাদার কাউকে ভাড়া করে কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থা হ্যাক করে সেই প্রতিষ্ঠানকে অচল করে দিতে পারে যে কেউ।
ক্যাসপারস্কি ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকিং ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্প্যামিংয়ের কারণে বছরে বৈশ্বিক ক্ষতির পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এটিএম মেশিনে ম্যালওয়্যার বসিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে অর্থ বের করে নেওয়ার প্রযুক্তি রাশিয়ার হ্যাকারদের তৈরি হলেও তা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে ক্যাসপারস্কি ল্যাব।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে রাশিয়ার স্থানীয় ব্যাংকের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে রুবল বিনিময়ের হার কয়েক মিনিটেই ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে হ্যাকাররা। এই কারসাজি করে বেশ কিছু অর্থ হাতিয়ে নেয় হ্যকাররা। পরে মস্কোভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি তদন্ত করতে দেওয়া হয়।
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ।
COMMENTS