মরণব্যাধি এক করল আমাদের

মরণব্যাধি এক করল আমাদের সেই যে আমাদের শেষ দেখা, তোমার মনে আছে? যেদিন দুজন দুজনকে ধরে অনেক কেঁদেছিলাম, হঠাৎ তুমি এসে বললে আমাকে ভুলে যা...

.
মরণব্যাধি এক করল আমাদের
সেই যে আমাদের শেষ দেখা, তোমার মনে আছে? যেদিন দুজন দুজনকে ধরে অনেক কেঁদেছিলাম, হঠাৎ তুমি এসে বললে আমাকে ভুলে যাও, কিন্তু আমি কী করে তোমাকে ভুলব বলো। তোমাকে তো ভোলার জন্য ভালোবাসিনি। তুমি তো আর কিছুই বলতে পারলে না, শুধু চলে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো আমায় জড়িয়ে ধরে সেকি কান্না তোমার। আমিও কি কম কেঁদেছিলাম, মনে হচ্ছিল বুকটা চিরে বুকের মধ্যে তোমায় ধরে রাখি। কিন্তু সেদিন ইচ্ছা থাকলেও তা পারিনি। তারপর ৬ বছর কেটে গেছে, তুমি একবারের জন্যও আমার খোঁজ নাওনি। আমি অনেক চেষ্টা করেও তোমার খবর পাইনি। হঠাৎ একদিন শুনলাম তোমার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। সেদিন আর নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে ইচ্ছা হচ্ছিল না। তারপর আস্তে আস্তে নিজেকে সামলে নিতে শুরু করলাম। এখনো মাঝে মাঝে তোমার স্মৃতি মনে হলে ঘুমাতে পারি না। কিন্তু এভাবে তোমার সাথে দেখা হবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি, এটাই বুঝি নিয়তি ছিল। দুজন আজ একই পথের যাত্রী। দুজন আজ এত বছর পর এত কাছাকাছি থেকেও মনে হচ্ছে যোজন যোজন দূরে। আমারই মতো তুমিও মৃত্যুর দিন গুনছ। দুজন আজ পাশাপাশি বেডে ক্যানসার নামক মরণব্যাধিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সামনাসামনি। জানো তো সত্যি ভাবিনি এভাবে তোমার সাথে দেখা হবে। তবে কি আজ সে কথাই সত্যি হতে চলেছে যেদিন তুমি শেষবারের মতো দেখা করতে এসে বলেছিলে, এ জনমে তো হলো না পরজনমে আমরা এক সাথে থাকব।
রকিবুল
দুর্গাপুর, রাজশাহী

তোমাকে যা বলা হয়নি
তোমাকে কখনো বলা হয়নি আমার মনের কথা। আজকে সাহস নিয়ে বলব তোমাকে। সেই দিন তোমার সঙ্গে যেদিন প্রথম কথা হয়েছিল, ভাবিনি কখনো যে তোমার প্রেমে পড়ব। তোমার কথা সব সময় মনে পড়ে আমার। প্রতিদিন তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করে। কিন্তু দেখা হয় না। তোমার সঙ্গে কথা হয় প্রায়ই কিন্তু বলা হয়নি। আজ বলছি, ঐশ্বর্য তোমাকে অনেক ভালোবাসি আমি। তোমার জন্য পাগল। বলা হয়নি আমার মনের কথাটুকু। এখনো মনে পড়ে সেই ফেলে আসা দিনগুলো। যখন ক্লাস করতাম তখন তোমার সেই মিষ্টি চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কিন্তু লেখাপড়ার কারণে তোমার থেকে চলে যেতে হয়েছে অনেক দূরে। কখনো ভাবিনি তোমাকে এভাবে ছেড়ে যেতে হবে। তোমাকে বলা হয়নি আমার মনের কথাটুকু। তাই আজ তোমাকে একবার মন থেকে বলতে চাই, তোমাকে ভালোবাসি।
ইতি
সোনামণি।
একবার ফোন করো
ফোন করতে নিষেধ করেছ, তাই করিনি। খুব বেশিদিন হয়নি তবু মনে হচ্ছে যেন বহু বছর কেটে গেছে, তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। প্রথম দু-এক দিন নিজেকে সামলে নিয়েছিলাম। কিন্তু আজকাল আর মনের সঙ্গে যুদ্ধ না করে নিজেকে সামলানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। তোমাকে না দেখে, তোমার সঙ্গে কথা না বলে আর যে থাকতে পারছি না, সোনা। সব সময়ই মোবাইলে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি। এই বুঝি তুমি এখনই ফোন করবে। বলবে, ‘বাবু.., কই তুমি?’ মোবাইলে কোনো মেসেজ এলেও মনে হয়, সেটা তুমিই পাঠিয়েছ। কিন্তু সব সময়ই নিরাশার তির আমার বুকে এসে লাগে। আদর করে যখন তুমি আমাকে ‘বাবু’ বলে ডাকতে, নিজেকে অন্য এক পৃথিবীতে খুঁজে পেতাম আমি। যেখানে সবকিছু ভুলে কেবল তোমাকে নিয়ে মগ্ন থাকতে ইচ্ছা করে।
জানি না তোমার টনসিলের অপারেশনটা হয়েছে কি না। মাঝেমধ্যে খুব দুশ্চিন্তা হয়। তোমার নিষেধের কারণে ফোন করে খোঁজখবরও নিতে পারছি না। তাই কথাগুলো মনের বাক্সে পোস্ট করে দিলাম। যদি তোমার কাছে পৌঁছায়, তাহলে একবার ফোন করো।
ময়নাপাখির বাবু, খুলনা
.
আমার মতো কেউ ভালবাসবে না তোমায়
আমার জীবনের প্রথম তুমি এসেছিলে, তোমার আগে আমাকে কেউ এভাবে ভালোবাসেনি। তোমাকেও আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। তোমার জন্য আমার জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছি। তোমাকে অনেক যত্ন করে রেখেছি যাতে কোনো বিড়ম্বনা তোমার জীবনে না আসে। যখন তুমি আমার আপনজন হয়ে আমাকে ভালোবাসতে শুরু করলে। তখন আমি পণ করেছি, আমার জীবনের একমাত্র তুমি। তুমি ছাড়া আমার জীবনে কাউকে কখনো কল্পনা করি না। তোমার কাজকে আমার কাজ মনে করি। তুমি আমার আছ, আমার থাকবে, এটাই প্রত্যাশা। কলেজজীবনে তোমার জন্য আমি অনেক পরিশ্রম করেছিলাম। তোমার পড়ালেখা শেষের পথে। তুমি বল তোমার জীবনে যত পরীক্ষা দিয়েছ, কোন পরীক্ষাটা তুমি একা দিয়েছ?
সব পরীক্ষায় তোমার সঙ্গে গিয়েছিলাম, যাতে তোমার কোনো সমস্যা না হয়। ঝড়-বৃষ্টির মাঝে টানা পাঁচ-সাত ঘণ্টা বসেছিলাম শুধু তোমার ভালোর জন্য। আমার জীবনে আমি যা চাইনি, তোমার জীবনে আমি তা চেয়েছিলাম। আমার জীবন থেকে চলে যাবে বাধা নেই। আমি জানি, যতই ঝড় আসুক, অটুট থাকবে এ প্রেমের বন্ধন। জানি তুমি আমাকে অনেক ভালোবাস, তুমি অন্য মেয়েদের মতো না। তুমিও আমাকে গ্রহণ করেছ তোমার আপনজন মনে করে।
ওমর, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
‘অনেক মিস করি রে তোকে’মোস্তা, কেমন আছিস ? আজ তোকে অনেক মিস করছি রে। ভাবছি এবার বাসায় গিয়ে অনেক দিন থাকব, অনেক মজা করব তোর সঙ্গে। কিছুই ভালো লাগে না জানিস, সব শেষ চাকরিটাই ছেড়ে দিলাম। আজ খুব মনে পড়ছে রে তোকে, বিশেষ করে তোর মাথা গরম হওয়ার মুহূর্তটা। তোর মনে আছে? একটা খেলা তুই আর আমি খুব খেলতাম, কিন্তু তুই যখন পারতিস না, তখন তোর মাথা অনেক গরম হয়ে যেত। আর আমি তখন মনে মনে হাসতাম, আর তুই তো আরও রেগে যেতি। তুই তো জানিস! তোকে ছাড়া আর কাউকে আমি সবকিছু শেয়ার করতে পারি না, অনেক কথা জমা রেখেছি রে, তোকে বলব বলে। ভুলে গেছিস নাকি! তুই আর আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম, জানিস আমি এখনো দেখি। যখন খারাপ লাগে, তখন তোর কথা মনে হয়, কেন জানিস?

কারণ খারাপ লাগলেই তোর কাছে দৌড়ে যেতাম, আমি জানি আমার কথা কেউ বিশ্বাস না করলেও তুই করবি, এই বিশ্বাসে। তোকে একটা কথা কখনো বলা হয়নি। আজ বলছি রে, অনেক ভালোবাসি রে তোকে...।
ইতি
তোর বন্ধু
মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম
আমারে কেন ভালোবাসলে না?
আমি বোধ হয় তোমাকে অতটাও ভালোবাসি না। আমি শুধু তোমার কথাগুলা শুনতেই বেশি ভালোবাসি। তোমার গিটার, তোমার গান, আর হাসিটাও। আমি ভালোবাসি আমাকে করা তোমার ম্যাসেজগুলো পড়তে। তোমার তার ছেঁড়া, আবেগী, অভিমানী, অতিজ্ঞানী, মিশ্র, মাথার দুই ইঞ্চি ওপর দিয়ে যাওয়া লেখাগুলো তোমার ওয়ালে গিয়ে পড়তে আমি দারুণ পছন্দ করি। আমি কিন্তু তোমার ফটোগ্রাফিও অনেক পছন্দ করি, বিশেষ করে সিগারেটের ধোঁয়া নিয়ে তোমার এক্সপেরিমেন্টগুলা।
আর তোমার সেলফিগুলো তো আমি যেন মিনিটে দুবার করে আনলাইক দিই। হুতুম পেঁচা তুমি কি জানো আমি কত দিন তোমার কণ্ঠ শুনি না। আমার সবচেয়ে বড় আফসোস যে আমি তোমার মাথাভর্তি অবাধ্য চুলগুলোকে কখনো এলোমেলো করে দেওয়ার সুযোগ পাইনি। তুমি কি জানো যে আমি মাঝে মাঝেই তোমার ছবি জুম করে দেখি। ঠিক করছি আর দেখব না। জানো আমি তোমাকে ভালোবাসার আগে তোমার প্রাক্তন প্রেমিকাদের ভালোবাসি। আমি তোমার প্রেমিকাদের একটুও হিংসা করি না। শুধু তোমার প্রথম প্রেমিকার জন্য তোমার যে তীব্র ভালোবাসাটুকু আছে সেই ভালোবাসাটাকে হিংসা করি, মারাত্মক হিংসা করি। উইপোকা তুমি ওই মেয়েটাকে কীভাবে অত্তো ভালোবাসলে? আমারে কেন ভালোবাসলে না?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
একবার ফিরে এসো বাবা
সালটা ছিল ২০০৫। চোখ বড় বড় করে বাবা আমাকে তাকিয়ে দেখেই আবার চোখ বন্ধ করে ফেলছেন। আমি যতবার সুরা ইয়াসিন পড়ে বাবার কানে ফুঁ দিই, ততবারই বাবা চোখ বড় করে তাকান। অন্য বোনরাও ভাগ করে করে সুরা ইয়াসিন পড়ছে। বাবার মাথার কাছে ঠায় বসে আমি। মনে এক টুকরো আশা, বাবা চোখ মেলে তাকাবেন আর কোনো দিন চোখ বন্ধ করবেন না। কিন্তু সবাই জানতাম বাবার অন্তিম সময় চলছে। চারদিকে আত্মীয়স্বজনের চাপা কান্না মৃদু আহাজারিতে রূপ নিয়েছে।
পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়স্বজন যে যেখানে খবর পেয়েছেন সবাই ছুটে এসেছেন। একবার বাবা অনেক অসুস্থ ছিলেন। আমি তার আদরের মেয়ে ছিলাম। আমায় বিয়ে দিয়ে দুশ্চিন্তায় বাবা ব্রেইন স্ট্রোক করে মানসিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। আমাকে ঠিকমতো চিনতেন না।
মৃত্যুর সঙ্গে বাবা সারাটা দিন পাঞ্জা লড়েছেন। ততক্ষণে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। যার যার সংসার আর কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন। শহরের বোনেরা যে যার মতো গন্তব্যে চলে গেল আর বাকিরা বাবার ভালোবাসা আর মমতার পাহাড় ধরে অটল অপেক্ষমাণ।
সারা রাত যমদূতের সঙ্গে যুদ্ধ করে সকাল সাড়ে আটটায় বাবা মারা গেলেন।
মৃত্যু নামের কঠিন আর বাস্তব কষ্টটা কেন বিধাতা দিয়েছেন?সেই যে বাবার মৃত্যুতে আমার চিৎকার করে কান্না, সেটাই ছিল শেষ কান্না। আজও আমি গভীর রাতে বাবার জন্য নিঃশব্দে কাঁদি। আজও কষ্ট চেপে রাত যাপন করি। আমার বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না। এতগুলো বছর পেরিয়ে গেছে বাবা, আজও চোখ বন্ধ করলেই তোমাকে দেখতে পাই। মনে হয়, প্রখর রোদে বটের ছায়া হও তুমি। বাবা তুমি যত দূরে আছ, আমার সমস্ত সত্তা জুড়ে আছ। আমার চোখে তুমি পৃথিবীর সব নায়কের বাস্তব রূপ। তোমার স্মৃতি আমার হৃদয়ের মণিকোঠায় চির অম্লান। আমার বুকে প্রচণ্ড কষ্ট। কেউ বোঝে না তোমার মেয়েকে। তোমাকে ভালোবাসি বাবা। যদি পারো, আরও একবার ফিরে এসো আমার বাবা হয়ে।
নীলাঞ্জনা, ঢাকা।

COMMENTS

নাম

অনলাইনে আয়,1,ইতিহাস,11,উপন্যাস,1,এক্সক্লুসিভ খবর,14,এলিয়েন রহস্য,3,কবিতা,3,কৌতুহলী,12,খাবার,19,গল্প,1,গুরুত্বপূর্ণ স্থান,2,ছবি,15,জীবনযাপন,16,জীবনী,12,টিপস অ্যান্ড ট্রিকস,11,পিডিএফ,3,প্রযুক্তি আলো,20,ফ্রিল্যান্সিং,8,বই,3,বিজ্ঞান,13,বিলভ ইট অর নট,12,বৃক্ষ,1,ভিডিও,4,ভেষজ,1,ভ্রমন,1,রহস্য,12,লাইফ টিপস,16,লেখাপড়া,4,সন্ধানী আলো,31,সাইন্স ফিকশন,1,সাধারণ জ্ঞান,9,সাপ্তাহিক সেরা পোস্ট,9,সাহিত্য,7,সেরা পোস্ট,8,স্বাস্থ্য কথা,36,স্মৃতি,11,Believe it or not,10,Curiosity,11,eBook,3,Education,4,Exclusive news,13,Freelancing,8,General knowledge,9,Health tips,35,History,10,Lifestyle,16,Light ferret,29,Literature,7,Mystery,11,Picture,15,Science,11,Technology,20,Tips & tricks,11,Top of the week,9,Video,4,
ltr
item
আলোর সন্ধানী : মরণব্যাধি এক করল আমাদের
মরণব্যাধি এক করল আমাদের
http://paimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/400x0x1/uploads/media/2016/03/23/43e04ad1027bb0a2b31873ce56eabccd-8.jpg
আলোর সন্ধানী
https://alorsondhani.blogspot.com/2016/04/blog-post_4.html
https://alorsondhani.blogspot.com/
http://alorsondhani.blogspot.com/
http://alorsondhani.blogspot.com/2016/04/blog-post_4.html
true
3238174760204916817
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy