মানুষ মৃত্যুর আগে নিজের উইলে কি লিখে যায়? কি লিখে যেতে পারে? কতরকম হতে পারে মানুষের শেষ ইচ্ছে? হ্যাঁ, এটা ঠিক যে আলাদা আলাদা ধরনের হওয়ায় ...
মানুষ মৃত্যুর আগে নিজের উইলে কি লিখে যায়? কি লিখে যেতে পারে? কতরকম হতে পারে মানুষের শেষ ইচ্ছে? হ্যাঁ, এটা ঠিক যে আলাদা আলাদা ধরনের হওয়ায় প্রতিটি মানুষেরই শেষ ইচ্ছা থাকে একেকরকম। সে হিসেবে উইলও হয় আলাদা ধরনের। কিন্তু এই মানুষগুলোর উইলগুলোতে একবার চোখ বুলিয়ে দেখুন তো। বিশ্বাস হচ্ছে? হাসছেন নিশ্চয়? কিংবা কোনটা পড়ে ভাবছেন এ কি পাগলামী? আজকের আয়োজন সাজানো হয়েছে এমনই বিশ্বজুড়ে পাগলামীপূর্ণ উইলকারীদের কথা নিয়ে। ৫. নেপোলিয়ান বোনাপার্ট ( মৃত্যু- ১৮২১ ) ইচ্ছাপত্র- মাথা পুরোপুরি কামিয়ে দিতে হবে আর চুলগুলো বন্ধুদের মাঝে সমবন্টিত হবে। সেসময় না বোঝা গেলেও পরবর্তীতে নেপোলিয়নের চুলগুলোকে পরীক্ষা করা হয় আর দেখতে পাওয়া যায় তাতে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক। বলা হয় নেপোলিয়নের ঘরের পরিবেশের কারণেই এমনটা হয়েছিল আর শরীরভর্তি আর্সেনিক নিয়ে শুকনো রক্ত মুখে তুলে মারা গিয়েছিলেন তিনি। তবে অন্য আরেকটি ধারণা মতে, তাকে আর্সেনিক দিয়ে ধীরে ধীরে মেরে ফেলা হয়েছিল। কেবল তাই নয়, পরবর্তীতে চিকিত্সার নামে আবার বিষই পান করতে দিয়েছিলেন চিকিত্সক নেপোলিয়নকে। ৬. টি এম জিঙ্ক ( মৃত্যু- ১৯৩০ ) ইচ্ছাপত্র- নারীবর্জিত একটা গ্রন্থাগার নির্মিত হবে। সারা জীবন ধরে নিজের মনে যত নারী সংক্রান্ত ঘৃণাকে পুষে রেখেছিলেন তারই ফলাফল ছিল লোয়ার বিখ্যাত আইনজ্ঞ জিমের এই উইল। তবে এর কোনরকম কারণ হিসেবে নিজের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতাকে দায়ী করেননি তিনি। তবে চেয়েছেন তার সম্পদ নির্দিষ্ট একটা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেলে সেটাকে দিয়ে একটা সম্পূর্ণ নারী বর্জিত গ্রন্থাগার তৈরি করা হবে। যেখানে কোন নারী প্রবেশ করতে পারবে তো নাই, সেই সাথে নারীসংক্রাস্ত কোন বই, ছবি বা কিচ্ছু থাকবেনা। অবশ্য পরবর্তিতে জিঙ্কের এই উইলের বিরুদ্ধে মামলা করে দেন তার স্ত্রী- সন্তান। ৭. হাইনরিখ হাইন ( মৃত্যু- ১৮৫৬ ) ইচ্ছাপত্র- স্ত্রী যাতে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে। ধরুন, আপনার অনেক টাকা পয়সা রয়েছে। কি করবেন সেগুলোকে আপনি? নিশ্চয়ই কাছের মানুষটিকে দিয়ে যাবেন। এখন সেই কাছের মানুষটি যদি হয় তরুনী স্ত্রী তাহলে? নিশ্চয় শর্ত হিসেবে আবার বিয়ে না করার কথা বলে যাবেন। কিন্তু কবি হাইনরিখ হাইন বা হেনরি কিন্তু উল্টো বিয়ে করার শর্তেই সম্পত্তি দিতে রাজী হয়েছেন স্ত্রীকে। তবে এটুকুর জন্যে নয়। এই উইলটি মজার কারণ সেখানে হাইনরিখ স্ত্রীকে বিয়ের শর্ত দেওয়ার পেছনে নিজের একটা লাভের কথা পরিচিত। আর সেটি হচ্ছে এই যে, হেনরি চেয়েছিলেন তার মৃত্যুর পর অন্তত একজন পুরুষ তার মৃত্যুর কথা ভেবে কাঁদুক। ভাবুক কেন হাইন মারা গিয়েছিল! আর সেজন্যেই স্ত্রীকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে বলেন হাইন। ৮. লুইস কার্লোস ডি নরোনহা ক্যাবরাল দ্যা কামারা কেমন হবে যদি একদিন সকালে উঠে শুনতে পান যে একজন প্রচন্ড ধনী ব্যাক্তি তার সম্পদের অনেকটাই আপনাকে দিয়ে গিয়েছেন এবং সেটাও কোনরকম কারণ ছাড়াই? নিশ্চয় ভাবছেন, এমনটা তো কেবল রূপালি পর্দাতেই হয়। বাস্তবেও কি হয় নাকি? কিন্তু সত্যিই এমনটিই হয়েছে আর হয়েছে লিসবনের ৭০ জন মানুষের ক্ষেত্রে। যাদেরকে নিজের উইলে অঢেল সম্পদের পুরোটা দিয়ে গিয়েছেন লুইস কার্লোস ডি নরোনহা ক্যাবরাল দ্যা কামারা নামের এক অত্যন্ত ধনী ব্যাক্তি। কি করে এই মানুষগুলোকে বাছাই করেছিলেন তিনি? একদম সোজা। লিসবনের টেলিফোন ডিরেক্টরির ভেতর থেকে।

COMMENTS