কথার জোরে নিজেকে জাহির করা আর ভেতরের সৌন্দর্য দিয়ে অন্যের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া দুটি পৃথক ব্যাপার। আসুন, ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে সরে এসে ইতিবা...
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আনাচে-কানাচে নেতিবাচক নানা প্রভাব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মাঝে মধ্যে এই ভেবে আশ্চর্য হতে হয়, আমাদের চারপাশের জগৎ কেন এত অসংযত, কেন এত সংকীর্ণ! আমাদের কর্মক্ষেত্রে জুনিয়রদের নিয়ে নির্ধারিত মিটিংয়ের সময় এমন কোনো বক্তব্য দেয়া ঠিক নয় যাতে আমাদের অবস্থান নাজুক হয়ে যায়। আবার বসের প্রশংসা করতে গিয়ে অতিরিক্ত কথা না বলে ফেলাই শ্রেয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে ‘কোনো কিছু বলতে গিয়ে অতিউৎসাহী না হওয়াই ভালো।’
অনেক সময় অপ্রিয় সত্যেরও অবতারণা করা ঠিক নয়, কেননা অনেকেই এটা হজম করতে পারে না, সেটা যত দৃঢ় সত্যই হোক না কেন। কেউ যদি আমাদের আত্মসম্মানে আঘাত দেয় আর আমরা এর কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাই তবে এর ফলে কী হতে পারে? আনন্দঘন মুহূর্তটি নিমেষে বিষাদময় হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেই সময়ও মাথা ঠাণ্ডা রেখে হাসি মুখ করে তাকে ধন্যবাদ জানানোই ভালো। যতক্ষণ আমাদের মনোভাব ইতিবাচক থাকবে ততক্ষণ সামান্য মিথ্যাও মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে না। কিভাবে একজন মানুষ ইতিবাচক হয়ে উঠতে পারে? এ ব্যাপারে মনোচিকিৎসক ও ‘লাইফস্টাইল’ পরামর্শক ডা. এসকে শর্মা ১০টি পরামর্শ দিয়েছেন।
থাকতে হবে ইচ্ছাশক্তি : সবার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠতে গেলে থাকতে হবে ইচ্ছাশক্তি। এই ইচ্ছাশক্তি আপনার জীবনযাত্রার মানে উৎকর্ষ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। ‘ইতিবাচকতা’ এটা একটা আবরণের মতো। যখন আপনি মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবেন, মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করতে শুরু করবে। তখনই আপনি হয়ে উঠবেন ইতিবাচক মানুষ। আপনি যখন দ্রুত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে ফেলতে পারবেন তখন আপনাকে আপনার চারপাশের মানুষ ভদ্রতা দেখাবে, সহকর্মীরা আপনাকে উৎসাহ দেবে।
বাস্তবমুখী হতে হবে : একেবারে সাধু ব্যক্তি হওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো। আপনি ইতিবাচক ব্যক্তি হয়ে উঠবেন, তার মানে এই নয় যে আপনার কোনো নেতিবাচক আবেগ থাকতে পারে না কিংবা কখনোই নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার আপনি হবেন না।
সর্বোপরি পরিস্থিতি অনুযায়ী কী করতে হবে সেটা ঠিক করতে হবে। কোনো কাজে ব্যর্থ হলে হতাশাগ্রস্ত হবেন না কিংবা বিপথের দিকে ধাবিত হবেন না। মানসিকভাবে আপনি একটি গাণিতিক ছক কষে রাখুন, যাতে করে সামনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারেন।
অভিজ্ঞতা অর্জন করুন : একজন মনোযোগী পর্যবেক্ষক হোন। আপনার চারপাশে খেয়াল রাখুন। কিভাবে আপনি আরো বেশি ইতিবাচক উপাদান আয়ত্ত করতে পারবেন তার জন্য দৈনন্দিন জীবনের কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হোন। এটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো বেশি ইতিবাচক করে তুলবে। সময় বাঁচিয়ে আপনাকে কাজ করে যেতে হবে। পরিচিত ‘চেহারা’র যে মূল্য আছে এ ব্যাপারটাকেও কাজে লাগানো শিখতে হবে। আপনার ভেতরে এই ক্ষমতাও তৈরি করতে হবে যেন আপনার আশপাশের মানুষ আপনার কর্মকাণ্ডে প্রভাবিত হয়।
পরিশীলিত করুন বক্তব্য ও শরীরের ভাষা : ভাষায় মার্জিত ও ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে। সহকর্মীদের সঙ্গে মিশতে হবে কাছাকাছি থেকে এবং বন্ধুত্বপূর্ণভাবে। শারীরিক উপস্থাপনা সবসময় পরিশীলিত থাকবে। আপনার আশপাশে আনন্দময় কিছু ঘটলে চেহারায় আনন্দ ও সুখী সুখী ভাব নিয়ে আসুন। হাসির কিছু ঘটলে মুখে হাসি নিয়ে আসুন। কাছের মানুষদের মধ্যে কেউ নতুন কিছু অর্জন করলে তাকে অভিনন্দন জানাতে ভুলবেন না। তাদের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটলে সেটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলার সুযোগ তৈরি করে দিন। এটা ভাববেন না যে আপনি একাই বুদ্ধিমান, আপনার চারপাশেও বুদ্ধিমানেরা আছে। কৌশলে চলুন।
বন্ধুদের সময় দেয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখুন : একটিমাত্র পথেই যদি আপনি সবার আস্থাভাজন হয়ে উঠতে চান সে ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ঘটনাই ঘটতে পারে। আপনি যদি বন্ধু মহলে বেশিরভাগ সময়ই রূঢ় আচরণ করেন তাহলে মনে রাখবেন আপনাকে একই ধরনের আচরণের মুখোমুখি হতে হবে। আপনার হৃদয়ে ইতিবাচকতা যদি গভীরভাবে থাকে তাহলে আপনার বন্ধু মহল হবে ইতিবাচক, কর্ম উদ্যোগী, হাসি-খুশি ও প্রাঞ্জল। আপনি যেখানেই যাবেন সেখানেই নিজেকে ইতিবাচকভাবেই খুঁজে পাবেন।
COMMENTS